
সিনিয়র রিপোর্টার:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে নিজেদের নয়; নারী ও সম্প্রদায় বিদ্বেষী পোস্ট টেক ডাউনে অন্তর্বতী সরকারের উপদেষ্টাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন। তিনি বলেছেন, উপদেষ্টাদের সমালোচনা শুনতে হবে। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় থেকে তাদের নিয়ে প্রকাশিত পোস্ট মুছে ফেলার অনুরোধের চেয়ে নারী ও সম্প্রদায় বিদ্বেষী পোস্ট টেক ডাউন করতে হবে আগে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থী-জনতা গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যায় জড়িতদের সনাক্তে জাতিসংঘের অনুসন্ধান ও বিচার কাজে সহায়তায় নাগরিক ও মিডিয়াদের কাছে নিহত ৮০ জন শিশুরু ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে তা প্রকাশের তাগিদ দিয়েছেন এই মানবাধিকার কর্মী।
পাশাপাশি দোষীদের গ্রেফতারের এজাহার বা মামলার বিষয়ে সরকারকে আরো সতর্ক হয়ে ন্যায় বিচারের পথ উন্মুক্ত হবে বলেন মনে করেন সারা। এছাড়াও কোর্টের ওপর রাইফেল রেখে গুলি ছোঁড়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কোর্টের অর্ডারে আড়িপাতার সুযোগ রাখার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন এই আইনজীবি।
শনিবার রাজধানীর কাওরানবাজারে বেসিস সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত নাগরিক সংলাপে এমন অভিমত তুলে ধরেন তিনি। সিভিল রিফর্ম বাংলাদেশ ২.০ আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর এর সঞ্চালনায় নতুন বাংলাদেশে আড়িপাতা, গোপনীয়তার অধিকার ও বাক স্বাধীনতা নিয়ে এই নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, রিমান্ডে কী তথা হচ্ছে তা গণমাধ্যমে প্রকাশ করাটা ঠিক নয়। ডিবি সূত্রের বরাত দিয়ে মিডিয়াগুলো খবর প্রকাশ করছে, এটি বেআইনী কাজ। সাজা হওয়ার আগে মিডিয়া ট্রায়াল না করা না হয় সে দিকটায় আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
স্বাধীন বাংলাদেশে ১৮২০ সালের ব্রিটিশ আইন দিয়ে মানহানিকর মামলা পরিচালনা করা দু:জনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আঁড়িপতার দরকার আছে। কেনানা পরাজিতরা যে আবার মাথাচাড়া দেবে না তার নিশ্চয়তা নেই। তাই নজরদারি থাকবে তবে এর ব্যবহার করাটার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
যারা আদালতের সংস্পর্শে এসেছেন তাদের কোর্টের ওপর আস্থা নেই। ওটিটি’র ওপর বাধা তৈরিতে একজন আইনজীবি কোর্টে গিয়েছিলেন। এরপর যা ঘটনলো তা আপনারা জানেন।
নাগরিক সংলাপে অন্যান্যের মধ্যে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা, জাহেদ উর রহমান, টিআরবি নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, সাংবাদিক গোলাম মুর্তজা, আশরাফ কায়সার, তথ্যপ্রযুক্তি সাংবাদিক জাকারিয়া স্বপন, রাজনীতিবিদ জুনায়েদ সাকি, সাইবার বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির, মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়শন সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ বিএম মইনুল হোসেন, ব্যারিস্টার নীতি সানজানা, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য দিদারুল ইসলাম ভূঁইয়া, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ফিদা হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।